×

ত্বক ও ত্বকের পরিচর্যা

সংবাদ প্রতিনিধি ০২:৪৪ মিঃ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৯ Views : 1329

ত্বকের গঠন

মানবদেহের সবচেয়ে বৃহৎ অঙ্গ হল ত্বক। এটি আমাদের সমগ্র দেহকে আবৃত করে আছে। ত্বক প্রধানত ২টি স্তর দ্বারা গঠিত। যথা-

  • এপিডার্মিস / বহিঃত্বক
  • ডার্মিস / অন্তঃত্বক

এপিডার্মিস / বহিঃত্বক

ত্বকের বাইরের আবরণকে এপিডার্মিস বলে। এটি এক প্রকার আবরণী কলা দ্বারা গঠিত। এপিডার্মিস পাঁচ স্তর বিশিষ্ট। সবচেয়ে বাইরের স্তরের কোষগুলো মৃত এবং তার উপরে কেরাটিন নামক একটি আবরণ থাকে। এপিডার্মিসে কোন রক্তনালী বা স্নায়ু নেই।

ডার্মিস / অন্তঃত্বক

এপিডার্মিসের ঠিক নিচের স্তরই ডার্মিস। এটি যোজক কলা দ্বারা গঠিত। এর মধ্যে রক্তনালী ও স্নায়ু বিদ্যমান। তাছাড়াও কিছু গ্রন্থি যেমন- ঘর্ম গ্রন্থি ও সিবেসিয়াস গ্রন্থি এতে অবস্থিত। এছাড়াও পাইলোইরেকটর পেশিও এ স্তরে বিদ্যমান।

এপিডার্মিসের স্তরের উপর ভিত্তি করে ত্বক প্রধানত দু-রকম। যথা-

  • পুরু ত্বক
  • পাতলা ত্বক

যে ত্বকে এপিডার্মিসের ৫টি স্তরই বিদ্যমান থাকে তা পুরু ত্বক। যেমন- হাত ও পায়ের তালু। এ ত্বকে কোন সিবেসিয়াস গ্রন্থি এবং লোমকূপ থাকে না। শুধু ঘর্ম গ্রন্থি থাকে।

আর পাতলা ত্বকে এপিডার্মিসের ৫টি স্তর থাকে না। এতে ৩ থেকে ৪টি স্তর থাকে। হাত ও পায়ের তালু ব্যতীত সমস্ত ত্বকই পাতলা ত্বক। এখানে ঘর্ম গ্রন্থির পাশাপাশি লোমকূপ ও সিবেসিয়াস গ্রন্থিও পাওয়া যায়।

ত্বকের আনুসঙ্গিক অংশ

  • চুল বা লোম
  • নখ
  • ঘর্ম গ্রন্থি, সিবেসিয়াস গ্রন্থি ইত্যাদি

চুল

মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য চুল কালো হয়। মেলানিনের অভাবে চুল সাদা হয়ে যায়। চুলের প্রস্থচ্ছেদে ২টি অংশ দেখা যায়। যথা-

  • কর্টেক্স
  • মেডুলা

কর্টেক্সের বাইরে কিউটিকল এর আবরণ থাকে। চুলে কোন রক্তনালী বা স্নায়ু থাকে না। স্নায়ু না থাকায় চুল কাটলে ব্যথা অনুভূত হয় না। চুল আবরণী কলা দ্বারা গঠিত।

নখ

নখও চুলের মত আবরণী কলা দ্বারা গঠিত। কেরাটিনের উপস্থিতির জন্য নখ শক্ত হয়। চুলের ন্যায় নখও মৃত কোষ দ্বারা গঠিত। এতে স্নায়ু বা রক্তনালী থাকে না।


ঘর্ম গ্রন্থি 

ত্বকে অসংখ্য ঘর্ম গ্রন্থি অবস্থিত।এ গ্রন্থি একপ্রকার বহিঃক্ষরা গ্রন্থি। এটি ঘাম নিঃসরণ করে এবং দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঘামের মধ্য দিয়ে দেহ থেকে পানি ও খনিজ লবণ বের হয়ে যায় এবং দেহের তাপ নিয়ন্ত্রিত হয়। 

সিবেসিয়াস গ্রন্থি 

এটি একপ্রকার বহিঃক্ষরা গ্রন্থি যা থেকে স্নেহজাতীয় পদার্থ  সিবাম নিঃসৃত হয় এবং ত্বককে মসৃণ রাখে। সিবামে অবস্থিত ফ্যাটি এসিড জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।