×

ঘরোয়া চিকিৎসা

সংবাদ প্রতিনিধি ০৪:৪৯ মিঃ, অক্টোবর ১১, ২০১৮ Views : 1039

বাংলাদেশের নানা জায়গা থেকে এই উদাহরণ গুলো নেয়া হয়েছে। হয়তো আপনার এলাকায়ও এগুলির মধ্যে কিছু কিছু প্রচলিত আছে। আপনার এলাকায় কোন্ কোন্ বিশ্বাসে স্বাস্থ্যের উপকার হয় আর কোন্টায় হয় না, তা জানবার উপায়ের কথা ভেবে দেখুন।

পেটের আলসার (ঘা) আর বুক জ্বালা হলে, তার করণীয় কি?

১। যাদের পেটে আলসার আছে বা বুক জ্বালার রোগ আছে বেশি ঝালমশলা, খুব গরম পানীয় খাওয়া উচিত নয়। তামাক একেবারেই চলবে না। বেশি মদ খাওয়াও নয়

২। খানিকটা ভাত জলে এক রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকাল বেলা ভিজে ভাতে ২ চা চামচ মেথি মিশিয়ে খালি পেটে খেয়ে নিন।

৩। প্রতি সকালে টাটকা চালকুমড়োর রস খেলে পেট জ্বালা কমে।

৪। থোড়ের রস জলে মিশিয়ে দিনে ৩বার খান। এই রস এলকালাইন বলে পেটের এসিডের কাজ কমিয়ে দেয়।

৫। প্রতিবার খাবার শেষে একটি পাকা কলা খাবেন।

৬। খাওয়ার অনেকক্ষণ পর ঠাণ্ডা জল বেশ খানিকটা খেয়ে নিলে ব্যথা কম থাকবে।

৭। পেটের আলসার আর অম্বলের রোগে ঘৃতকুমারী কাজে লাগতে পারে। স্পঞ্জের মতো পাতাগুলি ছোট ছোট টুকরোয় কেটে ফেলুন। সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর ল্যালপেলে কষা পানিটা ২ ঘন্টা অন্তর ১ গ্লাস করে খান।

৮। দুধ বা দই মেশানো ভাতে লঙ্কা বা মশলা না দিয়ে খাওয়া খুব ভালো। খাওয়ার পরে বা দুবার খাওয়ার মাঝে ব্যথা হলে ঠাণ্ডা দুধ বা ঠাণ্ডা পানি খেলে ব্যথা কমে।

বিছে কামড় দিলে, তার করণীয় কি?

১। এক টুকরো পেঁয়াজ কেটে কামড়ের জায়গায় ঘসে দিন। এতে ব্যথা কমে।

২। এক চিমটি পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট আর এক চিমটি সাইট্রিক এসিড একসঙ্গে গুঁড়িয়ে নিন। (সাইট্রিক এসিড না পেলে ১ ফোঁটা পাতিলেবুর রস নেবেন। গুড়োটা একটা কাগজের টুকরোয় নিয়ে আস্তে আস্তে কামড়ের ঠিক ওপরে দিন। এক ফোঁটা জল দিয়ে দিন। ওষুধটা জোর বুড়বুড়ি কাটবে, আর খুব গরম হয়ে যাবে। এতে সাধারণত :ব্যথা তখনকার মতো পুরোপুরি বা অনেকটা চলে যায়। নরম চামড়া বেশি পুড়ে যেতে পারে বা ফোসকা হয়ে যেতে পারে। শুধু কামড়ের জায়গাটুকুতেই গুঁড়োটা দেবেন।

৩। বকুলবীজ ঘষে বা গাঁদা ফুলের পাতা বেটে কামড়ের জায়গায় লাগান।

হাই ব্লাড প্রেশার - রক্তের চাপ বাড়ার প্রতিকার :

১। হলদে ডাটার রস ১ চা চামচ খাবার পরে খাবেন।

২। আদার রস ১ চা চামচ, মধু ১ চা চামচ আর জিরে গুড়ো ১ চা চামচ মিশিয়ে দিনে একবার করে খান।

৩। রক্তের চাপ কমানোর জন্যে দই, কাঁচা পেঁয়াজ, রসুন আর হলুদ গুঁড়ো খুব ভালো

৪। বেশি নুন এবং চর্বি খাবেন না।

ডায়াবেটিস - বহুমূত্র রোগ থেকে প্রতিকার পাওয়ার উপায় :

১। বেগুনি ফুলওয়ালা নয়নতারা (পেরিউইঙ্কল)। পুরো গাছটা শিকড় সমেত পানিতে ফুটিয়ে নিন। অন্য কিছু খাবার আগে এটা ছেঁকে খেয়ে ফেলুন।

২। জামের বিচি শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন। ১ চামচ গুঁড়োর ওপর গরম পানি ঢেলে ছেঁকে পানিটা খেয়ে নিন।

৩। রোজ দু বেলা ১ থেকে ৩ চা চামচ উচ্ছে বা করলার রস খাবেন।

৪। মেথি একটু সেঁকে নিয়ে রোজ সকালে ১ চা চামচ নিমপাতার রস খাবেন।

৫। একটা লজ্জাবতীলতা শিকড় শুদ্ধ উপড়ে তুলে নিন। বেটে নিন বা চালের সঙ্গে সেদ্ধ করে কাঁজি বানিয়ে নিন। রোজ এটা খাবেন।

থ্রেডওয়ার্ম - সুতোকৃমি থেকে প্রতিকার পাওয়ার উপায় :

১। নিমপাতা খুব মিহি করে বেটে নিন। এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই নিমপাতা বাটার একটি করে গুলিয়ে খাবেন। পরের ১ সপ্তাহ এটা খাবেন না। সুতোকৃমি পুরোপুরি সারাতে হলে বাড়ির সকলের একসঙ্গে এই চিকিৎসা করা উচিত।

২। ২-৪ কোয়া রসুন বেটে এক গ্লাস পানির সাথে রোজ ১ গ্লাস খান ৩ সপ্তাহ ধরে। ছোটদের দেবেন না।

টেপওয়ার্ম - ফিতেকৃমি থেকে প্রতিকার পাওয়ার উপায় :

১। ছোট এক গ্লাস দুধের সঙ্গে একটি সুপুরি বেটে নিন। ভোরবেলা খালি পেটে এটি খাবেন। ছোটদের দেবেন না।

২। একমুঠো চালকুমড়োর বিচি গুড়োঁ করে নিন। সকালে খালিপেটে এটি খাবেন। ২ ঘণ্টা পর ২ চা চামচ রেডির তেল খেয়ে নেবেন। ছোটদের দেবেন না।

৩। ছোট্ট এক টুকরো হিং জলে গুলে খালি পেটে খাবেন। সব রকম কৃমিতে কাঁচা হলুদের রসে একটু নুন মিশিয়ে

 ৪।  চা চামচ করে কালমেঘ পাতার রস খাবেন। চিরতা ভিজানো জল একদিন অন্তর সকালে খালি পেটে খাবেন।

 (ডেভিড ওয়ার্নার এর “যেখানে ডাক্তার নেই” হতে সংকলিত)