লিউকেমিয়া (Leukemia)
রক্তের ক্যান্সারকে লিউকমিয়া বলে।এ রোগে দেহে অপরিণত ও অস্বাভাবিক শ্বেতকণিকার সংখ্যা অনেক বেড়ে যায় এবং লোহিত অস্থিমজা থেকে স্বাভাবিক ও পরিণত রক্তকণিকা উৎপাদন কমে যায় ।এ রোগে লোহিত অস্থিমজা থেকে অস্বাভাবিক শ্বেত কণিকা উৎপন্ন হয় যা সারাদেহে ছড়িয়ে পড়ে।লিউকমিয়ায় রক্তে অরিপক্ক শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় শরীর চট করে সংক্রমণজনিত রোগে কাবু হয়ে পড়ে।যেমন:জ্বর/ফ্লু বরাবর হতে থাকে।এটি খুব মারাত্বক ও দূরারোগ্য ব্যাধি।অস্থিমজা প্রতিস্থাপন (Blood Marrow Transplantation)করে লিউকেমিয়া সনরাময় করা যায়।এছাড়া র্বতমানে অনেক ক্যান্সার কোষ বিধ্বংসী ঔষধ ব্যবহার করে এ রোগ প্রতিকার করা যায়।
লিউকেমিয়ার কারণ
এই রোগটি বংশগত এবং পরিবেশগত উভয় কারণেই হতে পারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কারণ অজানা থাকে।তবে যে সব কারণে এটি হতে পারে তা হল-
- কোন কারণে কেমোথেরাপি বা রেডিথেরাপি নেওয়া হলে।যেমন-অন্য কোন ক্যান্সারের জন্য থেরাপি নেওয়া
- উচ্চমাত্রায় রেডিয়েশনের শিকার হলে।যেমন-যারা এক্সরে গবেষনাগার বা পারমাণবিক গবেষনাগারে কাজ করেন।
- কিছু নিদিষ্ট রাসায়নিক দ্রব্যের সম্পৃক্ততা।যেমন-রেনজিন বা বেনজিনেনর অন্যান্য যৌগ।
- পরিবারের করো রিউকেমিয়া হয়ে থাকলে
- কিছু জেনেটিক অস্বাভাবিকতা। যেমন- ফিলাডেলফিয়া ক্রোমোজোমের উপস্থিতি
- কিছু জিনগত রোগ ।যেমন-ফ্যানকোনি এনিমিয়া।
লিউকেমিয়ার লক্ষণ
প্রাথমিক অবস্থায় সাধারণত লিউকেমিয়ার কোন উপসর্গ থাকে না।লিউকেমিয়া যখন প্রায় সমস্ত অস্থিমজ্জায় ছড়িয়ে পড়ে তখন অস্থিমজ্জা থেকে স্বাভাবিক রক্তকাণিকাগুলো উৎপন্ন হতে পারে না। এতে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা যেতে পারে।যেমন-
- বরাবর বিভিন্ন সংক্রমণের শিকার হওয়া।কিছুদিন পরপরই নানান সংক্রমণ হতে থাকে।অনেকদিন ধরে কাশি,ঠান্ডা লেগেই থাকে।রক্তে স্বাভাবিক শ্বেত রক্তকণিকা কমে যাওয়ায় এসব লক্ষণ দেখা যায়।শারীরিক কার্যক্ষমতা কমে যায়।সামান্য কাজ করলেই কষ্ট হয়। বস্তুত রক্তস্বল্পতার জন্য এমনটি হয়ে থাকে।
- শারীরের বিভিন্ন স্থানে অস্বাভাবিক রক্তপাত দেখা যায়।বিশেষ করে মাড়ি বা দাঁতের ফাঁক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।তাছাড়া সামান্য আঘাতে চামড়ার নিচে রক্তজমাট বেঁধে যায়।শরীরে কাল শিটে পড়ে।রক্তে অনুচক্রিকার অভাবে এ সমস্যা দেখা যেতে পারে।
- পেটে চাকা দেখা যেতে পারে।যকৃত এবং প্লীহা বড় হয়ে যায় বলে পেটে এগুলো চাকা চাকা বোধ হয়।
এসব ছাড়াও আরও অনেক উপসর্গ দেখা যেতে পারে।শরীরের নানা স্থানে ছড়িয়ে পড়া সাপেক্ষে নানান লক্ষণ দেখা যায়।




.jpg)

.jpg)






