হৃদযন্ত্রের সুস্থতার উপর বন্ধুতের প্রভাব রয়েছে। সুইডেনের একদল গবেষক ১৩ হাজার ৬০০ জনের উপর তিন বছর গবেষণা চালিয়ে দেখতে পান, যাদের বন্ধু বান্ধব কম বা নেই, তাদের ক্ষেত্রে হার্ট এ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৫০ শতাংশের বেশি। নিউইয়র্কের গবেষকরাও এ বছর প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে জানিয়েছেন, বন্ধুহীন ব্যক্তিরাহৃদরোগ,উদ্বেগজনিত রোগ ও বিষণ্ণতায় বেশি ভোগে।
২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জার্নাল অব দ্য ন্যাশনাল মেডিকেল এসোসিয়েশন-এ বলা হয়েছে, ভালো বন্ধুত¦ মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এই মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্ক আছে হৃদরোগের। মানসিক চাপের ফলে রক্তনালির ভেতর প্রদাহের ঝুঁকি বাড়ে, যা পরবর্তী সময়ে রক্তের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করতে পারে; নালির ভেতর রক্ত জমে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।
পিটসবার্গের কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক শেলডন কোহেল বলেন, জীবনের কষ্টকর সময়গুলো মোকাবিলা করতে বন্ধু সহায়তা করে। তারা চাপ মোকাবিলার জন্য মানসিক অবলম¦ন হিসেবে দুঃসময়ে পাশে থাকে।
যাদের সামাজিক যোগাযোগ বেশি, তারা অধিকতর আত্মবিশ্বাসী হয়, এবং জীবন ও পরিবেশের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ অনুভব করে। বন্ধুত্ব স্বাস্থ্যকর জীবনাচরণকেও উৎসাহিত করে। একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, সুখ সংক্রামক।
হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা বলেছেন, সুখ ব্যাপারটি সংক্রামক ভাইরাসের মতোই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একজনের কাছ থেকে অন্যজনে ছড়ায়, সুতরাং আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু যদি সুখী হয়, সে ক্ষেত্রে আপনারও সুখী হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অপরদিকে সমাজবিচ্ছিন্ন, বান্ধবহীন জীবন একই সঙ্গে অসুস্থ ও অসুখীও।
মানুষের ক্রমবিকাশের ধারা বা অভিব্যক্তিবাদেই রয়েছে এর উত্তর। মানুষ সামাজিক জীব। তাদের জন্মই হয়েছে সমাজবদ্ধ হিসেবে বাস করার জন্য। আর তাই সামাজিক বন্ধন দৃঢ় এমন ব্যক্তিরা অন্যদের চেয়ে বেশি মানসিক প্রশান্তি অনুভব করে, যা সুস্বাস্থ্যর জন্য প্রয়োজন। ফলে তাদের হৃদরোগ কম হয়, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বেশি থাকে এবং চাপ সঞ্চারী হরমোন কার্টিসলের পরিমাণ দেহে কম থাকে।
তাশা আর হার্ডই
মনোবিজ্ঞানী
হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের
বয়সী একাকী ব্যক্তিরা উচ্চ রক্তচাপ ও নিদ্রাহীনতায় বেশি ভোগেন। অস্থিরতা ও উদ্বেগে আক্রান্ত হন। তাদের দেহে স্ট্রেস হরমোনের পরিমাণ বেশি থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে কম। হার্ট অ্যাটাকের পর দ্রুত মৃত্যুর ঝুঁকি তাদের ক্ষেত্রে বেশি।
শিকাগোর রাশ ইউনির্ভাসিটি মেডিকেল সেন্টারের গবেষকরা দেখেছেন, একাকিতে¦ ভোগা ব্যক্তিদের স্মৃতিভ্রংশ রোগ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুন। ২০০৬ সালে স্তন ক্যান্সারের আক্রান্ত তিন হাজার সেবিকার ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, ঘনিষ্ট বন্ধুহীন রোগীদের ক্যান্সারে মারা যাওয়ার ঝুঁকি, যাদের দশের অধিক বন্ধু আছে, তাদের চেয়ে চার গুণ বেশি।
একই ভাবে, জরাযুর ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের উপর চালানো অন্য গবেষণায় প্রায় একই ধরণের ফল পাওয়া গেছে।বন্ধুত্বের যেসব উপকারিতার কথা বলা হয়েছে, অবশ্যই মনে রাখতে হবে সেগুলো ভালো বন্ধুত্বের ফল। বিপদগামী বন্ধুরা অবশ্যই আপনার স্বাস্থ্যর জন্যও বড় হুমকি।
যারা অনিয়ন্ত্রিত ও অসুস্থ জীবনধারণে অভ্যস্থ তারা আপনাকেও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপনের পথে নিয়ে যেতে পারে। আপনি হয়ে পড়তে পারেন ধূমপায়ী, মাদকাসক্ত, শারীরিক বা মানসিকভাবে অসুস্থ। তাই সুস্থ, দীর্ঘ জীবনের জন্য খুঁজে নিন প্রাণবন্ত, সুখী, পরোপকারী, বিশ্বস্ত, ভালো বন্ধু, গড়ে তুলুন নির্মল বন্ধুত্ব।
---সংকলিত




.jpg)

.jpg)





